
**আজকের তারাবিহর তিলাওয়াত ও প্রতিফলিত বিষয়সমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা:**
**১. তারাবিহ ও কুরআনের মর্যাদা:**
রমজানের তারাবিহ নামাজে পবিত্র কুরআন খতমের ঐতিহ্য মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য ইবাদত। আজ ২৫তম পারার সুরাগুলোতে আল্লাহর কুদরত, মানবজাতির প্রতি নিদর্শন, এবং আখিরাতের বর্ণনা বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে। এই অংশের তিলাওয়াত মুমিনদের অন্তরে তাকওয়া ও আল্লাহর মহিমা জাগ্রত করে।
**২. সুরা হামিম সাজদা (ফুসসিলাত):**
এই সুরার ৪৭ নং আয়াতে আল্লাহর অদৃশ্যের জ্ঞানের পরমতা তুলে ধরা হয়েছে। কিয়ামতের সময়, প্রকৃতির রহস্য, মানবদেহের সৃষ্টি—এসবই কেবল আল্লাহর ইলমের অধীন। নবী-রাসুলরাও শুধু তাই জানেন যা আল্লাহ প্রকাশ করেছেন। এ আয়াত মুমিনকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও ভবিষ্যতের চিন্তায় নিরাসক্ত হতে শেখায়।
**৩. সুরা শুরা, জুখরুফ, দুখান ও জাসিয়ার মূল বিষয়াবলি:**
– **সৃষ্টিজগতের নিদর্শন:** প্রকৃতি, মানবসৃষ্টি, এবং মহাবিশ্বের ভারসাম্যে আল্লাহর কুদরতের প্রতিফলন।
– **নারী ও সন্তানের মর্যাদা:** কন্যাসন্তানকে জাহেলি যুগের নিকৃষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি খণ্ডন করে আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
– **গুনাহের পরিণতি:** অবাধ্যতা ও শিরকের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিদের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়।
– **আরবি ভাষায় কুরআন নাজিল:** ইসলামের সর্বজনীনতা সত্ত্বেও কুরআনের ভাষা হিসেবে আরবির প্রজ্ঞা ও স্পষ্টতা গুরুত্বপূর্ণ।
**৪. আল্লাহর রহমত ও মানুষের দায়িত্ব:**
এই সুরাগুলোতে আল্লাহর অনুগ্রহের ব্যাপকতার পাশাপাশি মানুষের অকৃতজ্ঞতা ও জবাবদিহিতার কথাও উঠে এসেছে। জান্নাত-জাহান্নামের বর্ণনা মুমিনকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং গুনাহ থেকে বিরত রাখে।
**৫. প্রাসঙ্গিক শিক্ষা:**
– আল্লাহর অদৃশ্য জ্ঞানে বিশ্বাস রাখা ঈমানের অঙ্গ। ভবিষ্যতের চিন্তায় অস্থির না হয়ে বর্তমান ইবাদত ও কাজে নিষ্ঠা বাড়ানোই মুমিনের কর্তব্য।
– নারীর সম্মান ও সন্তানকে আল্লাহর আমানত মনে করা ইসলামের সৌকর্য।
– প্রাকৃতিক নিদর্শনগুলো আল্লাহর সান্নিধ্যে চিন্তাশীল হওয়ার মাধ্যম।
**৬. রমজানের তাৎপর্য:**
এই মাসে কুরআন নাজিলের স্মৃতিতে তারাবিহর তিলাওয়াত মুমিনের হৃদয়ে কুরআনের বার্তা গভীরভাবে প্রোথিত করে। আজকের সুরাগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর মহত্ত্ব ও মানবজাতির প্রতি তাঁর নির্দেশনা পুনর্বিবেচনা করে আত্মশুদ্ধির সুযোগ রয়েছে।
**মূল বার্তা:**
আল্লাহর সৃষ্টি, বিধান, ও আখিরাতের সত্যতা উপলব্ধি করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্যই মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত। তারাবিহর এই অংশ আমাদেরকে অহংকার ত্যাগ করে কৃতজ্ঞতা ও তাওয়াক্কুলের শিক্ষা দেয়।
সুরা শুরার ৩৬ থেকে ৪০ নম্বর আয়াতে কিছু গুণের কথা আছে। যাঁদের মধ্যে এ গুণ থাকবে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি খুশি হবেন। তাঁদের পুরস্কৃত করবেন। গুণগুলো হলো এক. ইমানদার, দুই. আল্লাহর ওপর ভরসাকারী, তিন. কবিরা গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে যে দূরে থাকে, চার. ক্ষমাকারী, পাঁচ. আল্লাহর ডাকে সাড়াদানকারী, ছয়. নিয়মিত নামাজ আদায় করে, সাত. পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে কাজ করে, আট. দান-সদকা করে এবং নয়. নির্যাতিত হলে সমান সমান প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
আল্লাহর সেরা দান কন্যাসন্তান
৮৯ আয়াতবিশিষ্ট সুরা জুখরুফ মক্কায় অবতীর্ণ। এটি কোরআনের ৪৩তম সুরা। জুখরুফ শব্দটি সোনা বা সৌন্দর্যের অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ সুরার ৩৫ নম্বর আয়াতে সোনার আলোচনা থাকায় এর নাম জুখরুফ রাখা হয়েছে।
এ সুরার ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের কাউকে যখন সংবাদ দেওয়া হয় সেই সন্তানের (কন্যা), যা তারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি আরোপ করে, তখন তার মুখমণ্ডলে কালিমা ছেয়ে যায়, আর মন দুঃখ–বেদনায় ভরে যায়।’ কন্যাসন্তান আল্লাহর সেরা দান। তারা মা-বাবার জন্য পৃথিবীতে জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে আসে। জাহেলি যুগে কন্যাসন্তানের মূল্যায়ন ছিল না। কন্যাসন্তানকে তারা অপমানজনক কাজ মনে করত। কন্যা হলে বাবাদের মুখ কালো হয়ে যেত। কন্যাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলত। ইসলাম এমন ঘৃণ্য কাজকে নিষিদ্ধ করেছে। কন্যাকে সম্মান দিয়েছে। কন্যার পিতাকে জান্নাতের শুভ সংবাদ দিয়েছে। বর্তমানেও কন্যাসন্তান হলে অনেকেই মন খারাপ করে। ছেলে হলে খুশি হয়। এই বৈষম্য গুনাহ।